1. admin@dainikshatakantha.com : dainikshatakantha :
সোমবার, ১০ মে ২০২১, ০১:২৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ আপডেট:
চীনা রকেটের ধ্বংসাবশেষ ভারত মহাসাগরে পড়েছে টানা নবম খেতাব জার্মান লিগ চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখ দেড়শতাধিক বছর পূর্বে প্রতিষ্ঠিত, রাজাপুরের কারামাতিয়া মসজিদে জুমায় মুসল্লিদের সংকুলান হয় না শেখেরহাটের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বেহালদশা রাজাপুরে আদালতের নির্দেশে ১৮ মাস পর হত্যার মামলা রেকর্ড কাঁঠালিয়ায় মাহিন্দ্রার ধাক্কায় কিশোরের মৃত্যু কাঁঠালিয়া ও রাজাপুরে দুই হাজার পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী দিলেন কেন্দ্রীয় আ. লীগ নেতা মনির ঝালকাঠিতে সুবিধা বঞ্চিত রোজাদারদের মাঝে দুরন্ত ফাউন্ডেশন’র ভিন্নধর্মী ইফতার ঝালকাঠিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান সমালোচনার মুখে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন, ভারত থেকে নাগরিকদের ফেরাতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া
শিরোনাম:
চীনা রকেটের ধ্বংসাবশেষ ভারত মহাসাগরে পড়েছে টানা নবম খেতাব জার্মান লিগ চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখ দেড়শতাধিক বছর পূর্বে প্রতিষ্ঠিত, রাজাপুরের কারামাতিয়া মসজিদে জুমায় মুসল্লিদের সংকুলান হয় না শেখেরহাটের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বেহালদশা রাজাপুরে আদালতের নির্দেশে ১৮ মাস পর হত্যার মামলা রেকর্ড কাঁঠালিয়ায় মাহিন্দ্রার ধাক্কায় কিশোরের মৃত্যু কাঁঠালিয়া ও রাজাপুরে দুই হাজার পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী দিলেন কেন্দ্রীয় আ. লীগ নেতা মনির ঝালকাঠিতে সুবিধা বঞ্চিত রোজাদারদের মাঝে দুরন্ত ফাউন্ডেশন’র ভিন্নধর্মী ইফতার ঝালকাঠিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান সমালোচনার মুখে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন, ভারত থেকে নাগরিকদের ফেরাতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

প্রায় শতবর্ষ বয়সেও কাঠমিস্ত্রির পেশায় ঝালকাঠির আঃ রব

  • প্রকাশিত : শনিবার, ২০ জুন, ২০২০
  • ৩৯০ বার পড়া হয়েছে
কাঠমিস্ত্রির কাজ করেন প্রবীণ ব্যক্তি আঃ রব হাওলাদার।

মোঃ আতিকুর রহমান
৭০ বছর বয়স পেরুলেই যে কোন ব্যক্তি বার্ধক্যে উপনীত হন। এরপর ধীরে ধীরে শারীরিক সক্ষমতা দুর্বল হতে থাকে। বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে ক্রমান্বয়ে বিছানাকে সঙ্গি করতে শুরু করেন। অন্যের উপর নির্ভর করে চলতে হয় তাকে জীবনের বাকি সময়টুকু। এর ব্যতিক্রম দেখালেন রাজাপুর উপজেলার নারিকেল বাড়িয়া গ্রামের কাঠমিস্ত্রি আঃ রব হাওলাদার। তার বয়স প্রায় শতবর্ষের কাছাকাছি। এদের জন্যই হয়তো জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছেন “বার্ধক্যকে সব সময় বয়সের ফ্রেমে বাঁধা যায় না। বহু যুবককে দেখিয়াছি যাহাদের যৌবনের উর্দির নিচে বার্ধক্যের কঙ্কাল মূর্তি। আবার বহু বৃদ্ধকে দেখিয়াছি যাঁহাদের বার্ধক্যের জীর্ণাবরণের তলে মেঘলুপ্ত সূর্যের মতো প্রদীপ্ত যৌবন।”
শারীরিক কাঠামোতে তাঁকে এতো বায়োজ্যষ্ঠ মনে না হলেও তাঁর সাথে কথা বললেই স্বশিক্ষিত এ ব্যক্তি ইতিহাসের প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য’র বর্ণনা দিলে তখন তার বয়স বিবেচ্য বিষয় হয়। এবিষয়ে প্রবীণ কাঠমিস্ত্রি আঃ রব হাওলাদারের সাথে এ প্রতিবেদকের কথা হয়। এসময় প্রবীণ ব্যক্তিত্ব আঃ রব হাওলাদার জানান, জন্ম কতসালে তা ঠিক মনে নেই। জাতীয় পরিচয়পত্রে ধারণা অনুযায়ী একটি বয়স উল্লেখ করা হয়েছে। তাতে যে বয়স দেয়া আছে তার চেয়েও বেশি বয়স হইছে। ১৯৪০ সালের পর থেকে সবকিছুই মনে আছে তার। শের-ই বাংলা একে ফজলুল হক কিভাবে কখন কোথায় এসেছিলেন। বক্তৃতাকালে কি কি কথা বলেছিলেন তা এখনও স্পভাবে বলতে পারেন তিনি।
আঃ রব হাওলাদার জানান, রাজাপুর উপজেলার নারিকেল বাড়িয়া গ্রামের হামেজ উদ্দিন হাওলাদারের ২পুত্র ও ৪কন্যা সন্তানের সবার বড় হওয়া দরিদ্র পরিবারের কারণে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা করতে পারেন। এরপর দরিদ্র পিতার সাথে সংসারের হাল ধরতে কাজে নামতে হয়েছে তাঁকে। কিশোর বয়সে দুরন্তপনার সময়ে অভাব অনটনের কারণে দু’বেলা দু’মুঠো ভাত ঠিকমতো খেতে পারেননি তিনি। তাই গ্রামের বাগানে ফল কুড়িয়ে বিচিসহ খেয়ে পেট ভরা রাখতেন তিনি। এসময়ে কাঠ মিস্ত্রির কাজ শিখে মানসের বাড়িতে কাজ শুরু করেন।
১৯৪২ সালের দিকে শের-ই বাংলা একে ফজলুল হক উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নের জগইরহাটে নৌকায় করে এক জনসভায় এসেছিলেন। তখন শের-ই বাংলা অভিবক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। বক্তৃতাকালে শের-ই বাংলা বলেছিলেন” আপনারা ভাতের ফেন (মার) খাবেন। ওটাতে খুব সার। চালের মূল পুষ্টি ভাতের ফেনে। ওটা কেউ ফেলে দিবেন না।” এমন কথা বলে শের-ই বাংলার স্মৃতিচারণ করেন প্রবীণ ব্যক্তি আঃ রব।
এরপর ১৯৪৭ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষ সাক্ষি আঃ রব। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে সংক্ষেপে তিনি জানান, পাকবাহিনী রাজাকারদের নিয়ে আমাদের এলাকায় আসে মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ি খুঁজতে। আমাকে সাথে নেয়ার জন্য তারা অনুরোধ করে। তাতে রাজি না হলে রুটি খাবার প্রলোভন দেখায়। তাতেও রাজি না হলে বন্দুকের নল থেকে একটি খোচা মেরে পাকবাহিনী চলে যায়, স্থানীয় একজন রাজাকার তাতে সহায়তা করে।
বর্তমানে তিনি ৫পুত্র ও ৪কন্যা সন্তানের জনক। পিতার সাথে কাঠ মিস্ত্রির কাজ শিখে বড় ও মেঝো ছেলে কাঠমিস্ত্রি পেশায় এবং সেজো ছেলে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করছেন। বাকি দু’ছেলেই স্নাতক শ্রেণিতে পড়াশুনা করছে। ৪কন্যা সন্তানকেই ইজ্জতের সাথে পরহস্ত করেন তিনি। বর্তমানে সাংসারিকভাবে সুখে আছেন বলেই সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আঃ রব হাওলাদার।
বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি হলেও বয়সের ভার তাকে দুর্বল করতে পারেনি। এখনও সুক্ষভাবে কাঠমিস্ত্রির কাজ করেন মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে। কোন অপারেশন ছাড়া চোখের জ্যুতিও আছে স্বাভাবিক। সকাল সাড়ে ৬টার মধ্যেই তিনি কর্মে যোগ দিয়ে বিরতিহীনভাবে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করতে থাকেন। খাবার ও নামাজের সময় বাদে একমুহুর্তের জন্যও তিনি ক্লান্তি বোধ করে বিশ্রাম নেন না। এলাকার মানুষের কাছে শান্তশিষ্ট স্বভাবের একজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি আঃ রব হাওলাদার। পারিবারিকভাবে তারা কোন রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত না থাকায় স্থানীয় (উপজেলা থেকে শুরু করে ইউপি সদস্য পর্যন্ত) জনপ্রতিনিধিদের কাছেও সমাদৃত। এলাকার সব ধরনের রাজনৈতিক ও সামাজিক উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় তার ঘরের সামনের আঙিনায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
সর্বস্বত্ত্ব © দৈনিক শতকন্ঠ - ২০২১ কর্তৃক সংরক্ষিত।
Theme Customized By BreakingNews