1. admin@dainikshatakantha.com : dainikshatakantha :
মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন

সাক্ষাৎকারে ঝালকাঠির তিন চিকিৎসক, চিকিৎসা সেবার দায়িত্ব নিয়ে মহামারিকে ভয় করা যাবে না

  • প্রকাশিত : বুধবার, ১৩ মে, ২০২০
  • ১১৩৩ বার পড়া হয়েছে
বা থেকে যথাক্রমে ডা. ওমর ফারুক, ডা. আবুয়াল হাসান, ডা. আবুল খায়ের মাহমুদ রাসেল।

মোঃ আতিকুর রহমান
ঝালকাঠি জেলায় মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত রোগী ১৫ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১১জন, রাজাপুরে ৩জন এবং নলছিটিতে ১জন। সদর উপজেলার ১১জনের মধ্যে গাবখান ধানসিঁড়ি ইউনিয়নেই আক্রান্ত ৫জন। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. ওমর ফারুক আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে ৪ জনকেই সুস্থ করে তুলেছেন। ঝালকাঠি পৌর এলাকায় আক্রান্ত ৩ জনকে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আবুয়াল হাসান ও রাজাপুর উপজেলায় আক্রান্ত ৩ জনকে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবুল খায়ের মাহমুদ রাসেল। এদের মধ্যে ২জন রোগী প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে এবং বাকিরা সবাই হোম আইসোলেশনে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, জনসাধারনকে চিকিৎসা সেবা দিতেই তারা ডাক্তার হয়েছেন। মহামারি দুর্যোগের সময় নিজেদেরকে সকল ধরনের ভয় এবং আতঙ্কের উর্ধে রেখে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেই চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে।
সহকারী সার্জন ডা. ওমর ফারুক জানান, ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাবখান ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের পূর্ব বিন্নাপাড়া গ্রামে একই পরিবারের ৬মাসের শিশুসহ তিনজনের দেহে প্রথম করোনা শনাক্ত হয়। ওই পরিবারে খাদ্য সহায়তা নিয়ে বারবার যাতায়াতকারী ইউপি সদস্যের নমুনা পরীক্ষা করলে তারও করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। হোম আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিয়ে তারা সুস্থ হয়েছেন। পরপর দুই বার পরীক্ষায় তাদের রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। সুস্থ হওয়া ব্যক্তিরা হলেন, ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাবখান ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের পূর্ববিন্নাপাড়া গ্রামের নাছির হাওলাদার (২৮), তার স্ত্রী সুমা আক্তার (২৩), তাদের ৬ মাসের শিশু পুত্র মো. সাজিদ ও স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু আক্তারুজ্জামান।
তিনি আরো জানান, পুরো পরিবার নারায়নগঞ্জে বসবাস করতেন। এরমধ্যে নাছির উদ্দিন দোকানে দোকানে বিভিন্ন মালামাল সরবরাহ করতেন। ৮ এপ্রিল তারা নারায়নগঞ্জ থেকে গ্রামের বাড়িতে আসেন। এর পরে এদের জ্বর সর্দি দেখা দিলে করোনা পরীক্ষা করা হলে পজেটিভ আসে। শুরুতে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পরে পুরো পরিবার ও এর আশ পাশের লোকজন। এসময় ঝালকাঠির সিভিল সার্জন ডা. শ্যামল কৃষ্ণ হালদারের নির্দেশনা অনুযায়ী সার্বিক তত্বাবধায়নে হোম আইসোলেশনে থেকেই চিকিৎসা শুরু হয়। স্বাস্থ্য সহকারি মো. জুবায়ের হোসেন নিয়মিত এদের সাথে যোগাযোগ রাখতেন। তাদেরকে দেয়া পরামর্শে জ্বর ও কাশির ওষুধ খেতেন নিয়মিত। এছাড়া লেবু, আদা, এলাচি, দারুচিনি গরম পানির সাথে মিশিয়ে ভালোভাবে ফুটিয়ে ভাব নিতেন এবং পান করতেন। এর বাহিরে নিয়মিত ব্যায়ামকরাসহ অন্যান্যা নিয়ন কানুন মেনে চলারও নির্দেশনা দেয়া হয় ওই পরিবারকে। এক মাসের মধ্যেই করোনাকে জয় করতে স্বক্ষম হয়েছে পুরো পরিবার। সেই সাথে একইভাবে নিয়ম মেনে চলায় ইউপি সদস্য আবু আক্তারুজ্জামানের ২ বারের টেস্ট রিপোর্টে করোনা নেগেটিভ আসায় তিনিও সুস্থ আছেন। অসুস্থ থাকাকালিন সময়ে তারা সবাই জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ ও স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা পেয়েছে।
ডা. ওমর ফারুক বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে সব সময় চেষ্টা ছিল কিভাবে এদের সুস্থ করা যায়। যখন যে ওষুধ দরকার হত আমরা তা দিয়ে দিতাম। আর তাদের মনোবল সব সময় চাঙ্গা রাখতাম। নিয়ম মেনে চিকিৎসা নেয়া এরা করোনাকে জয় করতে সক্ষম হয়েছে। ঝালকাঠি সিভিল সার্জন ডা. শ্যামল কৃষ্ণ হাওলাদার ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রিফাত আহম্মেদের নির্দেশ অনুযায়ী আমরা কাজ করেছি।
ব্যক্তিগত বিষয়ে তিনি বলেন, স্ত্রীও চিকিৎসক (নলছিটিতে কর্মরত) হবার কারণে পারিবারিকভাবে কোন বেগ পেতে হয়নি। তবে বাবা-মা আমাকে নিয়ে অনেক চিন্তা করছে। আমরা তাদের নির্ভয় দিয়ে মনোবল চাঙা রেখে কাজ করছি। আল্লাহর অসীম রহমতে আমরা সফল হয়েছি।
করোনাকে জয়ী নাছির হাওলাদার বলেন, ‘প্রথম যেদিন শুনেছি আমার পুরো পরিবার করোনায় আক্রান্ত তখন একদম ভেঙ্গে পরেছিলাম। গরীবের সংসার কিভাবে চিকিৎসা নিব, কি খাব। কিন্তু জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, স্বাস্থ্য বিভাগ ও জন প্রতিনিধিরা সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছেন। তারা আমাদের চিকিৎসা ও খাদ্য সাহায্যসহ সব ধরনের সহযোগিতা করেছেন। যার জন্য আমরা দ্রুত সুস্থ হতে পেরেছি। আমাদের সহযোগিতায় যারা এগিয়ে এসেছেন আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।
ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আবুয়াল হাসান জানান, ঝালকাঠি পৌর এলাকায় ৪জনের শরীরে করোনা উপসর্গ পরীক্ষায় পজিটিভ রিপোর্ট আসে। ১জন বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসোলেশনে প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসায় আছেন। যিনি সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ইপিআই কর্মকর্তা। বাকি ৩জনকে হোম আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তারা এখন অনেকটাই সুস্থ আছেন। আশাকরি তারা দ্রুত আরোগ্য লাভ করবেন। তিনি আরো বলেন, চিকিৎসা সেবা প্রদানকালে যথেষ্ট নিরাপত্তা ও সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। স্ত্রী ও বাচ্চাদের জীবাণু মুক্ত রাখতে সার্বিক ব্যবস্থাই নেয়া হচ্ছে। যাতে এতো দুর্যোগের সময় মহামারিতে আমরা বিপদে না পড়ি।
রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোঃ আবুল খায়ের মাহমুদ রাসেল জানান, রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স, একজন স্বাস্থ্য সহকারী ও ঢাকা থেকে আগত এক যুবকের করোনা পজিটিভ রয়েছে। যুবক বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসোলেশনে প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসায় আছেন। নার্স ও স্বাস্থ্য সহকারী নিজ নিজ বাসায় আইসোলেশনে আছেন। তারা বর্তমানে সুস্থ আছেন। সকলের দ্রুত সুস্থতা কামনা করি।
এর সাথে সাথে আক্রান্ত নার্স ও স্বাস্থ্য সহকারীর সংস্পর্শে আসা সকল ডাক্তার, নার্স এবং অন্যান্য সেবাদানকারী সবাই হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। ওই মূহুর্তে ডিউটির বাইরে থাকা ডাক্তার, নার্স, অন্যান্য সেবাদানকারী হাসপাতালের চিকিৎসা চালু রাখছেন। এছাড়াও মোবাইলে (০১৭৩০৩২৪৪২৫) চিকিৎসা নিতে পারবেন। এর বাইরে রাজাপুরে ১৯ টি কমিউনিটি ক্লিনিক খোলা আছে। সেখানে উপজেলাবাসী চিকিৎসা সেবা নিতে পারবেন। মাঠ পর্যায়ে ঝুঁকি নিয়ে কর্মরত সকল স্বাস্থ্য সহকারী, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক, স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও সিএইচসিপিদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, সবাই ঘরে ফিরে যান, সুস্থ থাকুন, নিজে বাঁচুন ও পরিবার বাঁচান।
ঝালকাঠির সিভিল সার্জন ডা. শ্যামল কৃষ্ণ হালদার বলেন, ‘করোনা শনাক্ত রোগীদের সার্বিক চিকিৎসা ব্যবস্থা জোরালোভাবেই চলছে। সংশ্লিষ্ট সকলে আন্তরিকতার সাথে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। করোনার হাত থেকে বাঁচতে হলে এই মূহুর্তে সবার ঘরে থাকতে হবে। আর জরুরী প্রযোজনে বের হলে মাক্স ও গ্লাভস পরতে হবে। এছাড়া অন্যান্য স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
সর্বস্বত্ত্ব © দৈনিক শতকন্ঠ - ২০২১ কর্তৃক সংরক্ষিত।
Theme Customized By BreakingNews