1. admin@dainikshatakantha.com : dainikshatakantha :
মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১, ১০:৪৯ অপরাহ্ন

মসজিদের ইমামের নালিশি অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন, সারার ওপর হামলাকারী জুবায়ের কারাগারে

  • প্রকাশিত : বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২০
  • ১৪৮ বার পড়া হয়েছে
ঝালকাঠির স্বর্ন কিশোরী নাছরি আক্তার সারার ওপর হামলা ও ইভটিজিং মামলার আসামী জুবায়ের আদনান।
ঝালকাঠির স্বর্ন কিশোরী নাছরি আক্তার সারার ওপর হামলা ও ইভটিজিং মামলার আসামী জুবায়ের আদনান।

কে এম সবুজ
ঝালকাঠির স্বর্ন কিশোরী নাছরি আক্তার সারার ওপর হামলা ও ইভটিজিং মামলায় জুবায়ের আদনান নামে এক যুবককে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঝালকাঠির সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিনের আবেদন করলে বিচারক এ.এস.এম তারেক শামস জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে যুবায়েরকে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। জুবায়েরের পক্ষে আদালতে শুনানী করেন অ্যাডভোকেট এম আলম খান কামাল ও মানিক আচার্য্য। জুবায়ের বরগুনা সদর উপজেলার নিশানবাড়িয়া গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে। বর্তমানে তার বাবা ঝালকাঠি সদর উপজেলার ছিলারিশ গ্রামে একটি মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সে ঝালকাঠি শহরের একটি কলেজের স্কাউটস’র টিম লিডার।
জানা যায়, প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় গত ২ অক্টোবর স্বর্ণ কিশোরী সারার বাসায় ঢুকে তাঁর ওপর হামলা করে জুবায়ের আদনান। এ ঘটনায় ওই দিন রাতে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ঝালকাঠি থানায় মামলা দায়ের করে নছরিন আক্তার সারা।
এদিকে গত ৯ অক্টোবর আসামি জুবায়েরকে গ্রেপ্তারের দাবিতে ঝালকাঠি থানার সামনে অনশন করে সারা। ৭২ ঘন্টার মধ্যে আসামি গ্রেপ্তারের প্রতিশ্রুতি পেয়ে অনশন ভাঙেন সারা। একইদিন ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। ডিবির একাধিক টিম জুবায়েরকে গ্রেপ্তারের জন্য বরিশাল, ঝালকাঠি ও রাজাপুরে অভিযান চালায়। ডিবি পুলিশের অভিযানে বারবার অবস্থান বদল করে দিশেহারা জুবায়ের আদালতে আত্মসমপর্ন করতে বাধ্য হয়।
যুবায়েরের বাবার নালিশি অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন :
সারার ওপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়েরের পরে পাল্টা একটি অভিযোগ দিয়েছে হামলাকারী জুবায়েরের আদনানের বাবা একটি মসজিদের ইমাম জাকির হোসেন। গত ৫ অক্টোবর আদালতে দায়ের করা নালিশি অভিযোগে সারা, তাঁর বোন আখিনুর আক্তারসহ চারজনকে বিবাদী করা হয়। অভিযোগটি নিয়ে সারা ও তাঁর পরিবারসহ বিভিন্ন মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, জুবায়ের আদনানকে ডেকে নিয়ে সারার বাসায় বসে মারধর করা হয়েছে। জুবায়েরের বাবা একজন মসজিদের ইমাম হয়ে এ ধরণের ‘মিথ্যা’ একটি ঘটনা সাজিয়ে নালিশি অভিযোগ দেওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন সারা। সারার বোন আখিনুর আক্তার বলেন, আমার বোনকে ঘরের ভেতরে ঢুকে মারলো যুবায়ের। অথচ ওর বাবা মসজিদের ইমাম হয়েও আমাদের সম্পর্কে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। এ অভিযোগ প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।
পুলিশের কাছে জুবায়ের আদনানের বাবার বক্তব্য :
জুবায়ের আদনানের বাবা ঝালকাঠি সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়নের ছিলারিশ গ্রামের একটি মসজিদের ইমাম জাকির হোসেন ঝালকাঠির ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লার কাছে বলেছেন, সারার পরিবার তাঁর কাছে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল। তিনি সারাদের বাসায় তাঁর মেয়েকে পাঠিয়ে ৮ দিন পরিবারের নানা বিষয়ে পর্যবেক্ষণে রাখেন। মেয়েটি ৮ দিন সারাদের বাসায় থেকে খোঁজখবর নিয়ে তাকে জানায়, সারাদের কোন জমিজমা নেই। তাদের আর্থিক অবস্থা ভাল না। এক কথায় ওরা গরিব। এ জন্য তিনি বিয়েতে রাজি হননি। পুলিশ সুপার এ বক্তব্য শোনার পরে যুবায়েরের বাবাকে বলেন, আপনি একজন মসজিদের ইমাম হয়ে বিয়ের আগেই যৌতুকের চিন্তা করেছেন। এটা কি ঠিক করেছেন! এ প্রশ্নের কোন জবাব দিতে পারেনি জুবায়েরের বাবা। ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
এ ব্যাপারে নির্যাতনের শিকার নাছরিন আক্তার সারা বলেন, আমার ওপর হামলাকারী যুবায়ের আদনানকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। আমার মামলার বিচার না হওয়া পর্যন্ত তাকে যেন জামিন না দেওয়া হয়, আদালতের কাছে আমি এ অনুরোধ করছি।
জুবায়ের আদনানের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া দরিদ্যদের ২৫০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ :
জুবায়ের আদনান ঝালকাঠির টেনকিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি স্কাউটস’র সঙ্গে জড়িত। সে ওই কলেজের স্কাউটস’র দলনেতা। এ সুবাদে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ২৫০০ টাকা প্রদানে পৌরসভার কয়েকটি ওয়ার্ডে দরিদ্র্য ও কর্মহীন মানুষের তালিকা করার জন্য জুবায়ের আদনানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তালিকা অনুযায়ী মোবাইলফোনে বিকাশ অথবা নগদ এ টাকা আসার পরে জুবায়ের দরিদ্র কয়েকজন ব্যক্তিদের কাছ থেকে কৌশলে পিন নম্বর নিয়ে নিজের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকিয়ে নেয়। বিষয়টি দরিদ্র ওই ব্যক্তিরা প্রথমে বুঝতে পারেনি, পরে জানতে পেরে স্থানীয় পৌর কাউন্সিলরদের কাছে অভিযোগ করেন। এক কাউন্সিলর দায়িত্ব নিয়ে জুবায়েরের কাছ থেকে দুইজনের টাকা ফেরত এনে দেন। এ বিষয়টি সোমবার একটি অনুষ্ঠানে পৌরসভার এক কাউন্সিলর জেলা প্রশাসকের কাছে জানান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিকসহ অন্যরা বিষয়টি জানতে পেরে হতবাক হয়ে যান। জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নিবেন বলে জানিয়েছেন।
এক নারীর কাছে ওসির কথা বলে চাঁদা দাবির অভিযোগ :
এছাড়া জুবায়ের এক মাস আগে উত্তর কিস্তাকাঠি আবাসনে একটি বিরোধকে কেন্দ্র করে হামিদা আক্তার নামে এক নারীর কাছে ঝালকাঠি থানার ওসির কথা বলে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই নারী বিষয়টি ওসিকে জানায়। ওসি মো. খলিলুর রহমানে জুবায়েরকে ডেকে ভৎসনা করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
সর্বস্বত্ত্ব © দৈনিক শতকন্ঠ - ২০২১ কর্তৃক সংরক্ষিত।
Theme Customized By BreakingNews