1. admin@dainikshatakantha.com : dainikshatakantha :
মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ০১:১৬ পূর্বাহ্ন

সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে, ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেদের মাছ ধরার প্রস্তুতি

  • প্রকাশিত : সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২০
  • ৭৯ বার পড়া হয়েছে
ঝালকাঠি: ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেদের মাছ ধরার প্রস্তুতি।
ঝালকাঠি: ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেদের মাছ ধরার প্রস্তুতি।

মো. আতিকুর রহমান
ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মা ইলিশ রক্ষায় ঝালকাঠির সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে ইলিশ নিধন না করতে গত ১৪ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ২২দিন সব ধরনের জাল ফেলা, মাছ ধরা, ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সরকার। ঝালকাঠি জেলায় নিবন্ধিত জেলে ৫২৬৫ জনে ইলিশ আহরণকারী জেলে রয়েছেন ৪হাজার ৬৩জন। এর মধ্যে ইলিশ নিধন নিষেধাজ্ঞা সময়ে সাড়ে ৩হাজার জেলেকে ভিজিডি সহায়তা দেয়া হয়েছে। অর্ধাহারে-অনাহারে দিনাতিপাত করে ২২দিন শেষে নদীতে জাল ফেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে সকল ধরনের জেলেরা।
জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মা ইলিশ রক্ষায় ২১ কিলোমিটার দৈর্ঘের সুগন্ধা নদী ঝালকাঠি অংশে ১৬ কিলোমিটার ও ১০৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে বিষখালীর নদীর ঝালকাঠি অংশে ২৯কিলোমিটার নৌ-সীমাকে সরকার ইলিশের অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করেছে। এ অভয়াশ্রম এলাকায় গত ১৪ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ২২দিন সব ধরনের মাছ ধরা, ক্রয়-বিক্রয়, মজুদ ও পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। অভয়াশ্রম এলাকার জেলেরা যাতে নদীতে না নামে এ জন্য সরকার প্রতি বছর এ সময়ে ৪০কেজি করে খাদ্যশস্য (চাল) ভিজিএফ সহায়তা হিসেবে বরাদ্দ দেয়।
দীর্ঘ ২২দিন মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা শেষে আর একদিন পর বুধবার (৪নভেম্বর) রাত ১২ টা থেকে সকল প্রকার মাছ শিকারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন জেলেরা। বৃহস্পতিবার থেকে বাজারে মিলবে সুস্বাদু রূপালী ইলিশ। মাছ কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন মৎস্যঘাটগুলোর আড়তদাররাও।
দীর্ঘ ২২দিন অলস সময় কাটানোর পর নদীতে মাছ ধরতে নামবে জেলেরা। এ কারণে স্বস্তি ফিরে আসছে জেলে পরিবারগুলোতে। তবে অভিযান সফল হওয়ায় গতবারের চেয়ে এবার মাছের উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন মৎস্য বিভাগ। ডিম ওয়ালা মা ইলিশ সংরক্ষণের জন্যে ২২দিন ২১ কিলোমিটার দৈর্ঘের সুগন্ধা নদীর ঝালকাঠি অংশে ১৬ কিলোমিটার ও ১০৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে বিষখালীর নদীর ঝালকাঠি অংশে ২৯কিলোমিটার নৌ-সীমাকে অভয়াশ্রম ঘোষণা করেছে মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ বিভাগ। এ সময় অভয়াশ্রম এলাকায় যে কোনো ধরণের মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো। বাঁধাহীন সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে মাছ ধরতে পারবে তাই জেলেদের মনে কর্মোদ্দীপনা ফিরে এসেছে।
ঝালকাঠি জেলে পল্লী এলাকায় গিয়ে জেলেদের মাছ ধরার প্রস্তুতি নিতে দেখা গেছে। সরেজমিনে জেলেদের কাউকে নৌকা মেরামত করতে ও কাউকে জাল ঠিক করার কাজে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। ৪ নভেম্বর রাত ১২টা বাজলেই নদীতে মাছ শিকাওে বের হবেন এমন খবরে তাদের অনেকের মুখে হাসির ঝিলিক দেখা গেছে।
জেলে ওধির মালো জানান, টানা ২২দিন সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকায় আমরা নদীতে যাইনি। এখন অভিযান শেষ হচ্ছে। তাই জাল-নৌকা নিয়ে নদীতে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
জেলে পাড়ার সুধির মালো জানান, কিছুদিন আগে নদীর পানি ছিলো পরিস্কার। কিন্তু এখন ঘোলা। এ কারণে ইলিশ কম পাওয়ার আশঙ্কা আছে।
প্রবীণ জেলে নবদীপ মালো জানান, নদীতে অনেক স্থানেই চর জেগেছে। নদীর নাব্যতা সংকটের কারণে ইলিশের বিচরণ ক্ষেত্র কমে যাচ্ছে। অন্যান্য প্রজাতির মাছ ধরা পড়লেও বড় সাইজের ইলিশের দেখা নেই। তারপরও ২২দিন বেকার থাকার পর জীবন জীবিকার তাগিদে নদীতে নামবে জেলেরা।
তবে সচেতন মহলের মতে, সরকার জেলেদের খাদ্য সহায়তায় প্রতি মাসে ৪০কেজি করে চাল দিলেও এ বছর বিভিন্ন কৌশলে প্রচুর পরিমাণে মা ইলিশ নিধন করেছে। ফলে এ বছর লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তাঁরা।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বাবুল কৃষ্ণ ওঝা জানান, ২১ কিলোমিটার দৈর্ঘের সুগন্ধা নদীর ঝালকাঠি অংশে ১৬ কিলোমিটার ও ১০৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে বিষখালীর নদীর ঝালকাঠি অংশে ২৯কিলোমিটার নৌ-সীমাকে মা ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন, পুলিশ, র‌্যাব ও কোস্ট গার্ড নিয়ে মা ইলিশ রক্ষায় ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ডিম ছাড়ার সময়ের সাগরের লবণ পানির মাছ মিষ্টি পানিতে উঠে আসে। এজন্য আমাদের উপূকলীয় জেলা ঝালকাঠির সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে মা ইলিশের প্রচুর দেখা মেলে। জাল ফেললেই ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ে মা ইলিশ। একারণে নিবন্ধিত জেলেদের বাইরেও মৌসুমী জেলেরা নদীতে মাছ ধরতে নামে। কিছু অসাধু জেলেরা অভয়াশ্রমে মাছ শিকার করলেও আমরা তাদের জেল জরিমানা করেছি। এবার অভিযান আমরা অনেক ভালোভাবে করেছি। এবার আরো বেশি ইলিশ উৎপাদন হবে বলে আশা করেন এ কর্মকর্তা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
সর্বস্বত্ত্ব © দৈনিক শতকন্ঠ - ২০২১ কর্তৃক সংরক্ষিত।
Theme Customized By BreakingNews