1. admin@dainikshatakantha.com : dainikshatakantha :
বুধবার, ২১ জুলাই ২০২১, ০৬:৩১ অপরাহ্ন

সন্তানের মুখ দেখা হলো না বাবার, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ঝালকাঠির ৫ জনের দাফন সম্পন্ন, এলাকায় শোকের মাতম – আমু’র শোক

  • প্রকাশিত : শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ২৩৭ বার পড়া হয়েছে
বাউকাঠি গ্রামে স্বজনদের আহাজারি।

স্টাফ রিপোর্টার
বিয়ের সাত বছর পরে বড় ভাইয়ের কন্যা সন্তান দেখতে ঢাকার উত্তরার একটি হাসপাতালে ছুটে যায় তারেক হোসেন কাউয়ুম (২৭)। মঙ্গলবার মারা যায় সেই নবজাতক। ভাইয়ের মেয়ের লাশ নিয়ে পরিবারের পাঁচজন ও তাঁর শ্যালক রওয়ানা হয় ঝালকাঠির উদ্দেশ্যে। মৃত্যুশোক বুকে চেপেও নিজের ২১ দিন আগে জন্ম নেওয়া সন্তানের মুখ দেখার জন্য অপেক্ষা তারেকের। প্রিয় সন্তানের প্রথমবারের মত মুখ দেখা হলো না তাঁর। বরিশালের উজিরপুর উপজেলার আটিপাড়া গ্রামে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে বুধবার বিকেলে বাস-অ্যাম্বুলেন্স-কাভার্ডভ্যানের ত্রিমুখি সংঘর্ষে তারেকসহ মারা যায় ৬ জনই। নিহতের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্স চালক রয়েছেন। এক পরিবারের সবার মৃত্যুতে শোকের মাতম চলছে নিহতদের গ্রামের বাড়ি সদর উপজেলার বাউকাঠিতে।
নিহতের স্বজনরা জানান, সন্তান জন্মের পাঁচদিন আগে তারেক ঢাকা যায় চাকুরিতে যোগদানের জন্য। সন্তান জন্মের পর সরাসরি তাঁর মুখ দেখা হয়নি। মোবাইলে ছবি দেখেই খুশি ছিল। প্রিয় সন্তানকে ছুয়ে দেখা হলো না তাঁর। স্বামী, ভাইসহ পরিবারের ৬ জনকে হারিয়ে নির্বাক তারেকের স্ত্রী ঝিলিমিল আক্তার মরিয়ম। কোলে ২১ দিন বয়সের সন্তান নিয়ে লাশের পাশে আহাজারি করেন তিনি। কান্না যেন থামছে না তাঁর। সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে আর চোখ বেয়ে অশ্রæ ঝড়ছে অঝোড়ে। এদিকে দুর্ঘটনার খবর শুনে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকেই তাদের বাড়িতে ভিড় করে স্থানীয়রা। বিভিন্ন স্থান থেকে আত্মীয় স্বজনরাও আসে নিহতের পরিবারের লোকজনকে শান্তনা দিতে। তাদের কান্নায় বাতাস ভারি হয়ে যায়। ভোর চারটায় অ্যাম্বুলেন্সযোগে লাশ নিয়ে ঝালকাঠির বাউকাঠি গ্রামের বাড়িতে আসলে হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। স্বজনহারাদের আহাজারি দেখে প্রতিবেশীরাও চোখে পানি ধরে রাখতে পারেনি। এমন মর্মান্তিক মৃত্যুকে কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না প্রতিবেশীরাও। নিহতের স্বজনদের শান্তনা দিতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন তারাও। তাদের নানা স্মৃতি নিয়েও আলোচনা করেন।

সড়ক দুর্ঘটনায় দুমরে মুচরে যাওয়া অ্যাম্বুলেন্স।

নিহতরা হলেন, ঝালকাঠির বাউকাঠি গ্রামের তারেক হোসেন কাউয়ুম (২৭), তাঁর বড় ভাই আরিফ হোসেন (৩৫), মা কহিনুর বেগম (৬৫), ছোট বোন শিউলী বেগম (৩০) ও ভাইয়ের শ্যালক নজরুল ইসলাম (২৮)। অ্যাম্বুলেন্স চালক কুমিল্লার আলমগীর হোসেন (৩৫)। অ্যাম্বুলেন্সে ছিল আরিফের মৃত চারদিন বয়সের কন্যা সন্তান। বাউকাঠি গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে তারেক ও আরিফ ঢাকা উইনডে ওয়াশিং কোম্পানিতে চাকরি করতেন। তাঁর বোন শিউলী বেগম ঢাকা সিএমএইচ এর নার্স ছিলেন। তাঁরা ঢাকাতেই থাকতেন।
এদিকে নিহত আরিফের স্ত্রী তামান্নাকে সকালে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে আনা হয়েছে। বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন তিনি। নিহতের আত্মার শান্তি কামনায় সকাল থেকে বাড়ির পাশের একটি এতিমখানায় কোরআন খতম করা হয়।
এদিকে সকাল ১০টায় বাড়ির পাশের মাদ্রাসা মাঠে নিহতদের মধ্যে ৫ জনের জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সরদার মো. শাহ আলমসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। পরে পারিবারিক কবর স্থানে তাদের লাশ দাফন করা হয়। শিউলী আক্তারের লাশ ঢাকা সিএমএইচ এ ময়না তদন্ত শেষে সেনাবাহিনীর তত্ত¡াবধায়নে গ্রামের বাড়িতে লাশ দাফন করা হয়।
দুর্ঘটনায় মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন ১৪ দলের মুখপাত্র ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু এমপি। তাঁর উদ্যোগে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনায় শুক্রবার জুম্মাবাদ স্থানীয় মসজিদে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
সর্বস্বত্ত্ব © দৈনিক শতকন্ঠ - ২০২১ কর্তৃক সংরক্ষিত।
Theme Customized By BreakingNews