1. admin@dainikshatakantha.com : dainikshatakantha :
রবিবার, ১৬ মে ২০২১, ০৩:২৪ অপরাহ্ন

হারিয়ে যাচ্ছে শিশুদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রতিষ্ঠান ঐতিহ্যের মক্তব, ঝালকাঠি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ৫১৯টি কেন্দ্র চালুর দাবী

  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২০
  • ২৫১ বার পড়া হয়েছে

মো. আতিকুর রহমান
জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ফরজ। বিশেষত ধর্মীয় জ্ঞান না থাকলে ধর্ম মোতাবেক জীবন যাপন করা সম্ভব নয়। যে ব্যক্তি সঠিকভাবে অজু বা গোসল করতে জানে না, সে নামাজ পড়বে কিভাবে? অন্তত নামাজ পড়ার জন্য যে কয়টি সুরা শুদ্ধভাবে জানা প্রয়োজন, একজন মুসলমান হিসেবে সেগুলো শিখে রাখা জরুরি। আর শৈশবেই এ আলোকে সন্তানদের গড়ে তোলা না গেলে পরবর্তিতে দেশের চলমান সাধারণত প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণসহ কারণে-অকারণে সে সুযোগ আর হয়ে ওঠে না। এমন চিন্তা থেকে একসময় মসজিদে মসজিদে চালু হয় মক্তব ব্যবস্থা। যার মাধ্যমে প্রতিটি মুসলমান শিশুকালেই ইসলামের মৌলিক জ্ঞানগুলো অর্জন করতে পারত।
গত মার্চ মাস থেকে মহামারি করোনার কারণে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে। যার কারণে মসজিদ ভিত্তিক মক্তব অথবা কুরআন শিক্ষা কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে কুরআনের শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিদিনের পাঠ্যাভ্যাসেও পিছিয়ে পড়ে।
যেহেতু স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে হেফজখানায় কুরআন শিক্ষাগ্রহণ কার্যক্রমের অনুমতি দিয়েছে সরকার। সেহেতু কুরবানির পর পরই মক্তবগুলোতেও কুরআন শিক্ষা কার্যক্রম চালু করার বিষয়ে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছে সচেতন অভিভাবকরা।
ঝালকাঠি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিদর্শক ইব্রাহিম খলিল জানান, ঝালকাঠিতে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে আওতায় মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পে জেলায় ৫১৯টি শিক্ষা কেন্দ্র রয়েছে। এরমধ্যে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্র ২৪২ টি, সহজ পদ্ধতিতে কুরআন শিক্ষা কেন্দ্র ২৬৫টি এবং বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্র রয়েছে ১২টি। ঝালকাঠি জেলায় ৫১৯টি শিক্ষা কেন্দ্রের মধ্যে সদর সদর উপজেলায় ১৪১টি, নলছিটি উপজেলায় ১২৬টি, রাজাপুর উপজেলায় ১২৬টি এবং কাঁঠালিয়া উপজেলায় ১২৬টি। প্রশিক্ষকদের অন্যত্র চাকরী হওয়ায় দায়িত্ব পালন না করা এবং সঠিকভাবে দায়িত্বপালনে দক্ষতা না থাকায় ছাটাই হওয়ায় ১০টি পদ শূন্য রয়েছে। সদর উপজেলায় ৬টি, নলছিটি উপজেলায় ১টি, রাজাপুর উপজেলায় ২টি ও কাঠালিয়া উপজেলায় ১টি পদ খালি আছে। জেলায় ২৪২টি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্রের মধ্যে সদর উপজেলায় ৫৫টি, নলছিটি উপজেলায় ৬০টি, রাজাপুর উপজেলায় ৬৫টি এবং কাঁঠালিয়া উপজেলায় ৬২টি।
৬ বছর থেকে ১৩ বছর বয়সীদের জন্য সহজপদ্ধতিতে কুরআন শিক্ষা কেন্দ্র রয়েছে ২৬৫টি। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ৮৩টি, নলছিটি উপজেলায় ৬৩টি, রাজাপুর উপজেলায় ৫৮টি এবং কাঁঠালিয়া উপজেলায় ৬১টি। বয়স্কদের জন্য জেলার ৪টি উপজেলার প্রত্যেকটিতে ৩টি করে মোট ১২টি কুরআন শিক্ষা কেন্দ্র আছে বলেও জানান সুপারভাইজার ইব্রাহিম খলিল।
ঝালকাঠি কুতুবনগর আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল মান্নান জানান, বিভিন্ন সরকারী, বেসরকারি স্কুল, কিন্ডারগার্টেন ও ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে মর্নিং শিফট চালু হওয়ায় একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠী মক্তবের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই তাদের জন্য কোনো বিকল্প পথ বের করা সময়ের দাবি।
জানাগেছে, ৭১১ সালে মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু বিজয়ের পরপরই ভারতবর্ষে মক্তব ও মাদরাসা শিক্ষার সূচনা হয়। তবে শুরুর দিকে এর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক রূপ ছিল না। মুহাম্মদ ঘোরি দ্বাদশ শতকের শেষ দিকে ভারতবর্ষে তুর্কি সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে ১১৯১ সালে আজমিরে একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। তবে ভারতবর্ষে মক্তব ও মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থার বিস্তার ঘটে মূলত মোগল আমলে। সেই শিক্ষাব্যবস্থা ব্যাপক জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য ছিল সব মহলে। ভারতবর্ষে মুসলিম শাসকদের শাসনামলে শিক্ষাব্যবস্থা ও ধর্ম অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত ছিল। ইতিহাসবিদ এ আর মল্লিক লিখেছেন, ‘বাংলার মুসলমানদের অতীত ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে যখন কোনো সন্তানের বয়স চার বছর চার মাস চারদিন পূর্ণ হতো, তখন তার বিদ্যা শিক্ষার সূচনা হতো। একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পবিত্র কোরআনের কিছু অংশ শিশুকে পাঠ করে শোনানো হতো। শিশু তা পুনরাবৃত্তি করত। এ ছিল প্রতিটি মুসলিম পরিবারের অপরিহার্য প্রথা।’ (A. R. Mallic, British Policy And Muslim in Bengal, p.149)
সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের মসজিদগুলোতেও সকালবেলা শিশুদের মক্তব খুলে দ্বিনি শিক্ষা দেওয়ার রেওয়াজ যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। একসময় বাংলার পথে-ঘাটে ভোরের পাখিদের সঙ্গে সঙ্গে মক্তবগামী কোরআনের পাখিদের দেখা মিলত। কিন্তু ইদানীং স্কুলগুলোতে মর্নিং শিফট চালু হওয়ায় এবং কিন্ডারগার্টেনগুলোতে সকাল সকাল পাঠদান শুরু হওয়ায় অনেকেই মক্তবের এই ন্যুনতম শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এটি তাদের দ্বিন শেখার প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর প্রভাবে তৈরি হচ্ছে ধর্মীয় জ্ঞানশূন্য একটি বিশাল জনগোষ্ঠী। আর স্কুলে যে পদ্ধতিতে এবং যে সিলেবাসে ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষার বই পড়ানো হয়, এতে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হয় না। তবে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম এ ক্ষেত্রে প্রশংসার দাবি রাখে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
সর্বস্বত্ত্ব © দৈনিক শতকন্ঠ - ২০২১ কর্তৃক সংরক্ষিত।
Theme Customized By BreakingNews