ভাণ্ডারিয়ায় ৪র্থ শ্রেণীর স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ

0
200

রিয়াজ মাহমুদ মিঠু, ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় চতুর্থ শ্রেণী পড়ুয়া এক স্কুল ছাত্রী (১২) ধর্ষণের শিকার হয়েছে। মেয়েটি বর্তমানে ৬ মাসের অন্তঃস্বত্তা। এ ঘটনায় মেয়েটির মা বাদি হয়ে শুক্রবার রাতে অভিযুক্ত ধর্ষক ফিরোজ মোল্লাকে আসামী করে ভাণ্ডারিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ধর্ষক তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসত বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছেন।
থানা ও স্থানীয়দের সূত্রে জানাগেছে, বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার মোজাহার মোল্লার ছেলে ফিরোজ মোল্লা ভাণ্ডারিয়া উপজেলার চিংগুরিয়া গ্রামের শ্বশুর বাড়িতে স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছিলো। গত ১০ জানুয়ারি সন্ধ্যায় প্রতিবেশী দরিদ্র কাঠমিস্ত্রির মেয়ে ৪র্থ শ্রেণী পড়ুয়া ওই স্কুল ছাত্রীকে ঘরে একা পেয়ে প্রতিবেশী লম্পট ফিরোজ জোর পূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর মেয়েটিকে সে প্রাণনাশের ভয়ভীতি দেখায়, যাতে সে ঘটনা কাউকে না বলে। ঘটনার চারমাস পর মেয়েটির পরিবার মেয়েটির স্বাস্থ্যগত পরিবর্তন লক্ষ্য করলে ঘটনা পরিবারে জানাজানি হয়। এরপর হাসান কবির সোহেব হাওলাদার নামে এক প্রভাবশালীর মাধ্যমে ধর্ষক ফিরোজ মোল্লা বিষয়টি সামাজিক ফয়সালার নামে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে আসছিলো। শুক্রবার দুপুরে মেয়েটি অসুস্থ বোধ করলে তার পরিবার চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভাণ্ডারিয়া শহরের একটি ক্লিনিকে আল্ট্রাসনোগ্রাম করে। এসময় নির্যাতিত মেয়েটি ৬ মাসের অন্তঃস্বত্তা ধরা পরে। পুলিশ এ ঘটনার খবর পেয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে পরিবারসহ সন্ধ্যায় থানায় নিয়ে আসেন। এরপর রাতে মেয়েটির মা বাদি হয়ে অভিযুক্ত ফিরোজ মোল্লাকে আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ভাণ্ডারিয়া থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
ভূক্তভোগি স্কুল ছাত্রীর মা রেহেনা বেগম জানান, ঘটনার দিন তিনি বিকেলে জরুরী কাজে ভাইয়ের বাড়িতে যান। ফিরতে রাত হয়। তার স্বামী কাজে বাইরে ছিলেন। সন্ধ্যায় মেয়েকে ঘরে একা পেয়ে লম্পট ফিরোজ মোল্লা ধর্ষণ করে। এরপর সে মেয়েটিকে নানা ভয়ভীতি দেখায়।
ভাণ্ডারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ এস.এম. মাকসুদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মেয়েটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগি মেয়েটির মা বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত আসামী বসতবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। তাকে গ্রেফতারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here